খুব সহজেই মুখের অবাঞ্ছিত লোম দূর করার ১০টি ঘরোয়া পদ্ধতি শিখে নিন

মুখে অবাঞ্ছিত লোম থাকা শুধু মহিলাদের ক্ষেত্রে একটা গুরুতর সমস্যা। বিশেষত ঠোঁটের ওপর এবং নীচের অংশ, কানের পাশ বা জুলপির অংশ বা অনেক সময়ে কপালেও অতিরিক্ত লোমের কারণে চেহারার সৌন্দর্য যেন নষ্ট হয়ে যায়। তাই আপনাদের জন্য রইলো ঘরোয়া ভাবে মুখের অবাঞ্ছিত লোম তোলার পদ্ধতির খোঁজ।

বাড়িতে এই উপায় ব্যবহার করার আগে ভালো করে পড়ে নিন নিয়মাবলী। লেখার শেষের বিশেষ দ্রষ্টব্য পড়তে ভুলবেন না।

১. লেবুর রস ও চিনির স্ক্রাব
লেবুর রস এক প্রাকৃতিক ব্লিচ। মুখের অবাঞ্ছিত লোম দূর করার জন্য এটি সবচেয়ে ভাল কাজ করে। একটা পাতিলেবুর রসে ২ টেবিল চামচ চিনি ভাল করে মিশিয়ে নিন। চিনি যতক্ষণ না গুলে গিয়ে একটা চিটচিটে ভাব আসছে ততক্ষণ পর্যন্ত নাড়তে থাকুন। এবার লোমের অংশে এই মিশ্রণ লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট লাগিয়ে রেখে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২-৩ দিন এটি অ্যাপ্লাই করতে পারেন।

২. হলুদ লেবুর রসের স্ক্রাব
হলুদ গুঁড়ো ত্বকের জন্য খুবই ভাল এবং লেবুর রসে রয়েছে ভিটামিন সি যা ব্লিচ, তাই এই মিশ্রণ মুখের লোম দূর করতে সাহায্য করে। এর জন্য একটা পাতিলেবুর রসের মধ্যে ২ চামচ হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করে নিন। তারপর তা মুখের লোমের অংশে ১৫ মিনিট লাগিয়ে ভাল করে জল দিয়ে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে ২বার এটি ব্যবহার করুন।

৩. কফির স্ক্রাব
কফির মধ্যে থাকা ক্যাফেইন ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে মুখের অতিরিক্ত লোম তুলে ফেলতে সাহায্য করে। কফির স্ক্রাব তৈরি করতে ২ টেবিল চামচ কফির পাউডারে, ১ টেবিল চামচ চিনি, ২ চামচ পাতিলেবুর রস এবং কয়েক ফোঁটা মধু মিশিয়ে একটা ঘন পেস্ট বানিয়ে নিন। তবে এক্ষেত্রে চিনি যেন পুরোপুরি গুলে না যায়। এই মিশ্রণটি লোমের অংশে ভাল করে মাসাজ করুন ৫ মিনিট। এরপর ১৫ মিনিট মুখে রেখে দিন।সপ্তাহে ২ দিন এটি ব্যবহার করুন।

৪. ডিম ও কর্নফ্লাওয়ার
একটি ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ কর্ন স্টার্চ এবং সামান্য চিনি মিশিয়ে নিন। ডিমের সাদা অংশ এবং কর্ন স্টার্চ আঠালো হওয়ায় ত্বকের অবাঞ্চিত লোম টেনে তুলে আনতে সাহায্য করে। তবে যাদের মুখে ব্রণ বা ফুসকুড়ি রয়েছে তাঁরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করবেন না।

৫. টমেটো আর লেবুর স্ক্রাব
টমেটো ভিটামিন সি-এর ভরপুর উৎস। আর দুইয়ে মিলে তৈরি হয় এক অসাধারণ স্ক্রাব। এর জন্য টমেটোর রস আর লেবুর রস সমপরিমাণে মিশিয়ে নিন। প্রয়োজন মনে করলে তাতে ১ চামচ চিনিও মিশিয়ে নিতে পারেন। এবার এই পেস্টটি লোমের অংশে মোটা করে লাগিয়ে নিন। এইভাবে ২০ মিনিট মুখে রেখে দিন। এবার ঠান্ডা জলে মুখ ভাল করে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে ২দিন এটি অ্যাপ্লাই করতে পারেন।

৬. পাকা কলা ও ওটমিল
একটা মাঝারি মাপের পাকা কলার সঙ্গে ২ চামচ ওটমিল মিশিয়ে একটা থকথকে পেস্ট তৈরি করুন। এবার আলতো হাতে ২০ মিনিট মতো মুখে মালিশ করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২বার করে এটি অ্যাপ্লাই করুন।

৭. মধু ও লেবুর স্ক্রাব
লেবুর পাশাপাশি মধুও প্রাকৃতিক ব্লিচ। পাশাপাশি মধু ত্বকের পিএইচ-এর মান বজায় রাখে। তাই ২ চামচ মধুর সঙ্গে ১ চামচ লেবুর রস ভাল করে মিশিয়ে নিয়ে সারা মুখে ভাল করে লাগিয়ে নিয়ে ২৫ মিনিট মতো রেখে দিন। এবার জল দিয়ে মুখ ভাল করে ধুয়ে নিন।

৮. পেঁপে ও দুধের প্যাক
পেঁপেও কিন্তু ত্বকের অবাঞ্ছিত লোম দূর করে ত্বককে আকর্ষণীয় করে তোলে। ২ চামচ পেঁপে বাটার সঙ্গে ১ চামচ দুধ মিশিয়ে নিয়ে প্যাক বানিয়ে মুখের লোমের ওপর লাগান। ১৫ মিনিট রেখে, একটু করে জল দিয়ে মুখ মাসাজ করতে করতে তুলে ফেলুন প্যাকটি। সপ্তাহে ১বার করে এটি করুন।

৯. তড়কার ডাল ও মেথির গুঁড়ো
২ চামচ মেথি গুঁড়োর সঙ্গে তাতে তড়কার ডাল গুঁড়ো করে ২ চামচ পরিমাণে মেশান। প্রয়োজনমতো জলও মেশান। মিশ্রণটি মুখে ১৫ মিনিট রেখে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ভাল ফল পেতে মিশ্রণটি সপ্তাহে ৩ দিন মুখে অ্যাপ্লাই করুন।

১০. আলু ও মুসুর ডাল
মুসুর ডাল সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। এবার তাতে একে একে ৪ চামচ আলুর রস এবং এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিয়ে একটা পেস্ট তৈরি করে নিন। এবার পেস্টটি ত্বকের ওপর লাগিয়ে নিন। এটি আপনার ত্বকের ওপর একটা আস্তরন ফেলবে, যা মুখের অবাঞ্ছিত লোম তুলে আনতে সাহায্য করে।

বি.দ্র. এক কোনও উপকরণে যদি মুখে চুলকানি বা ব়্যাশ সৃষ্টি করে তাহলে মুখে ঠান্ডা জল ও বরফ লাগান। বাড়াবাড়ি মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Loading...